Breaking news

প্রযুক্তি

চীনে এআই সেবা বাড়াতে আলিবাবা ও বাইদুর প্রযুক্তি ব্যবহার করবে অ্যাপল

চীনে নিজস্ব এআই সেবা চালুর লক্ষ্যে আলিবাবা ও বাইদুর প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এই ঘোষণার পরপরই হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ডিভাইসে এখন থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সসহ সাতটি এআই সেবা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আলিবাবার ‘কিউয়েন এআই’ মডেল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা ছবি ও টেক্সট প্রক্রিয়াজাত করার উন্নত সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, বাইদু আইফোন ডিভাইসের জন্য অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ফিচার তৈরিতে কাজ করবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এই অংশীদারিত্ব অ্যাপলের জন্য চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
অ্যাপল-ওপেনএআই দ্বন্দ্বে নতুন মোড়: বিশ্বের প্রথম এআই স্মার্টফোন আনল চীন

মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর আইনি লড়াইয়ের উত্তাপের মধ্যেই বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিল চীন। সোমবার সাংহাইতে আয়োজিত এক ইভেন্টে 'স্টেপফান' নামের একটি স্টার্টআপ তাদের নতুন ‘স্টেপএক্স নিও’ ফোনটি সবার সামনে নিয়ে এসেছে। নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘স্টেপ এওএস’ এবং ‘স্টেপ আমু’ এআই এজেন্টের সমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। মাইক্রোসফটের প্রাক্তন কর্মীদের তৈরি এই এআই স্টার্টআপের দাবি, সাধারণ স্মার্টফোনের মতো এই ফোনে আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন নেই। ‘স্টেপ আমু’ নামের এআই এজেন্টটি ভয়েস বা সাধারণ টেক্সট কমান্ডের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেন, ভ্রমণ ও অন্যান্য জটিল কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কাজ করতে সক্ষম এই এআই মডেলটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ভিত্তিতে তৈরি। বর্তমানে মার্কিন প্রযুক্তি বাজারে যখন অ্যাপল ও ওপেনএআই-এর মতো কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক গোপনীয়তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন চীনের এই সাফল্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই স্মার্টফোনের দাম বা বাজারে আসার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেপফান।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের নির্দেশ আইজিপির

অপরাধ দমনে পুলিশ কর্মকর্তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে তিনি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। সাইবার অপরাধসহ আধুনিক ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিয়ত নিজেদের আপডেট থাকারও কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। এবারের সমাপনী কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারীসহ মোট ৫০০ জন শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইজিপি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পাঁচ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবায় কাজ করার আহ্বান জানান। আইজিপি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবেলায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে এসব ক্যাডেটরা দুই বছরের মাঠ পর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি: চেরনোবিল-ফুকুশিমার সঙ্গে তুলনা অমূলক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুরে ব্যবহৃত থার্ড-জেনারেশন প্রযুক্তির কারণে চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমেই এর নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান জানান, রূপপুরে অত্যাধুনিক Generation-III+ VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতীতের সব পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিক্ষা থেকে তৈরি। কেন্দ্রটিতে কোর ক্যাচার, প্যাসিভ হিট রিমুভাল সিস্টেম এবং ডাবল কন্টেইনমেন্টের মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম। কমিশনিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত কঠোর একটি শিল্পপ্রক্রিয়া, যা তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আইএইএ (IAEA) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো ধরনের কারিগরি দুর্বলতা নয়, বরং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রতিটি পরীক্ষা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাই প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
প্রযুক্তির দাপটে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি: ইলন মাস্কের সম্পদের রহস্য ও ‘টেকনো-সামন্তবাদ’

টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের রেকর্ড পরিমাণ সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পুঁজিবাদ ও ডিজিটাল অর্থনীতির চরিত্র বদলে যাওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রথাগত পণ্য উৎপাদন বা সম্পদের চেয়ে এখন ডেটা, অ্যালগরিদম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই অর্থনৈতিক ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানের এই নতুন ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণকে অনেক অর্থনীতিবিদ ‘টেকনো-ফিউডালিজম’ বা প্রযুক্তিগত সামন্তবাদ হিসেবে অভিহিত করছেন। অতীতে সম্পদের উৎস ছিল তেল, ইস্পাত বা ব্যাংক, কিন্তু বর্তমানের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন এক অবকাঠামো গড়ে তুলছে যা জনমত থেকে শুরু করে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। জেফ বেজোস বা মার্ক জাকারবার্গের মতো ‘ক্লাউডালিস্ট’রা এখন প্রথাগত পুঁজিবাদের সীমানা ছাড়িয়ে এমন এক ডিজিটাল পরিসর তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যই মুনাফার মূল কাঁচামাল। ব্যবহারকারীরা যখন এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন, তখন তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিবর্তে অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এক ডিজিটাল বাস্তুসংস্থানে প্রবেশ করেন, যা মালিকপক্ষের মুনাফা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলন মাস্কের মতো ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির রহস্য লুকানো রয়েছে তাদের সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে, যেখানে স্টারলিঙ্ক, স্পেসএক্স, এক্স (টুইটার) ও টেসলার ডেটা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। এই মডেল কোনো একক পণ্য বিক্রির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যা বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। যদিও অনেকে একে সামন্তবাদের আক্ষরিক পুনরাবৃত্তি না বলে পুঁজিবাদেরই আরও আগ্রাসী ও কেন্দ্রীভূত রূপ মনে করেন, তবুও এই ধারায় ধনকুবেরদের সম্পদের পাহাড় গড়া এবং বৈশ্বিক সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
সাংহাইয়ে ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন ২০২৬’-এ যোগ দিলেন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, উদীয়মান প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিবিদেরা আলোচনা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ জাতিসংঘের মহাসচিব বক্তব্য রাখেন। তারা এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। এই আয়োজনে ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট সুশাসন নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের সদিচ্ছা বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে স্মার্টওয়াচ কতটা নির্ভরযোগ্য?

স্মার্টওয়াচ দিয়ে হৃদস্পন্দন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘুমের হিসাব রাখার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব যন্ত্র স্বাস্থ্যের প্রাথমিক ধারণা দিলেও তা কোনোভাবেই নির্ভরযোগ্য ডাক্তারি পরীক্ষার বিকল্প নয়। বিশেষ করে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া স্বল্পমূল্যের স্মার্টওয়াচের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে যেকোনো শারীরিক সমস্যায় সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অ্যাপল, স্যামসাং বা গারমিনের মতো স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচগুলো বিশ্রামের সময় হৃদস্পন্দন বা রক্তে অক্সিজেনের (SpO₂) কাছাকাছি সঠিক মাত্রা জানাতে পারে। তবে দ্রুত হাঁটা, হাতের অতিরিক্ত নড়াচড়া, ত্বকের রং কিংবা ঘড়ি ঢিলাভাবে পরার কারণে এই রিডিংয়ে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ইসিজি, ঘুমের ধরন, স্টেপ কাউন্ট বা ক্যালরি খরচের মতো সূচকগুলো সেন্সরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অনুমান করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টওয়াচের ক্যালরি খরচের হিসাবে ২০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত গরমিল হতে পারে। এগুলো হার্ট অ্যাটাক বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো জটিল রোগ নির্ণয়েও সক্ষম নয়। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশের বাজারে ২ থেকে ৫ হাজার টাকায় যেসব চীনা বা নকল স্মার্টওয়াচ পাওয়া যায়, সেগুলোর স্বাস্থ্যগত ফিচারের কোনো ক্লিনিক্যাল ভিত্তি নেই। এগুলো রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মতো ভুয়া ফিচার দিয়ে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে। তাই স্মার্টওয়াচকে কেবল ফিটনেসের প্রাথমিক সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য প্রচলিত মেডিকেল যন্ত্রপাতির ওপরই ভরসা রাখা উচিত।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
দেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন: শিগগিরই আসছে ‘ই-হেলথ কার্ড’

দেশের স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এই তথ্য জানান। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল রোডম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ই-হেলথ কার্ড হলো নাগরিকদের একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর পূর্বের সব রোগের ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট ও ওষুধের বিবরণ মুহূর্তেই দেখতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে গত দুই বছর ধরে এই ডিজিটাল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ২০, ২০২৬ 0
বিদেশি ভাষাশিক্ষা, পঞ্চম শিল্পবিপ্লব ও মানবিক বুদ্ধিমত্তার বিকাশ
বিদেশি ভাষাশিক্ষা, পঞ্চম শিল্পবিপ্লব ও মানবিক বুদ্ধিমত্তার বিকাশ

একসময় বিদেশি ভাষা শেখাকে শখ হিসেবে দেখা হতো। কেউ সাহিত্য পড়তেন। কেউ ভ্রমণের জন্য শিখতেন। কেউ আবার ব্যক্তিগত আগ্রহে নতুন ভাষা আয়ত্ত করতেন। এখন সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। আজ বিদেশি ভাষাশিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক দক্ষতা। এটি উচ্চশিক্ষা, চাকরি, গবেষণা, ব্যবসা, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে, পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের যুগে ভাষাজ্ঞান মানুষের পেশাগত ও মানবিক সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।   বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, অটোমেশন ও তথ্য বিশ্লেষণ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি আমাদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের সমাজ শুধু যন্ত্রনির্ভর হবে না। সেখানে মানুষের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও যোগাযোগ ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ প্রযুক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়ই পঞ্চম শিল্পবিপ্লব বা ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর মূল কথা।   চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা ও অটোমেশনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। পঞ্চম শিল্পবিপ্লব সেই প্রযুক্তিকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসে। এখানে শুধু প্রশ্ন করা হয় না, একটি যন্ত্র কত দ্রুত কাজ করতে পারে? প্রশ্ন করা হয়, সেই যন্ত্র মানুষের জীবন কতটা সহজ করছে? প্রযুক্তি কি নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে? এটি কি পরিবেশ রক্ষা করছে? কর্মক্ষেত্রে মানুষের মর্যাদা কি বজায় থাকছে? সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী কি প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছে?   পঞ্চম শিল্পবিপ্লব মানুষকে উৎপাদনব্যবস্থার কেন্দ্রে রাখে। এটি প্রযুক্তিকে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না। বরং সহযোগী হিসেবে দেখে। একটি রোবট ভারী কাজ করতে পারে। এটি পুনরাবৃত্তিমূলক কাজও করতে পারে। কিন্তু নেতৃত্ব, সহানুভূতি, পরিকল্পনা, নৈতিক সিদ্ধান্ত ও সংকট ব্যবস্থাপনা মানুষের দায়িত্ব। তাই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা প্রয়োজন। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির উদ্দেশ্য হলো ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব একটি বিশ্ব গড়ে তোলা।   এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বৈষম্য, পরিবেশ, শিল্প, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু প্রযুক্তি দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সহযোগিতা প্রয়োজন। বোঝাপড়া প্রয়োজন। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। এসডিজি কোনো এক দেশের একক দায়িত্ব নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা এখন বৈশ্বিক বিষয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জরুরি। আর সেই অংশীদারত্বের ভিত্তি হলো ভাষা ও যোগাযোগ। বিশ্বের বহু দেশে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করেন। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বাঙালি জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই বৈশ্বিক বাস্তবতায় ফরাসি ভাষা শেখা একটি ভবিষ্যৎমুখী সিদ্ধান্ত। ফরাসি শুধু ফ্রান্সের ভাষা নয়, এটি কানাডা, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং আফ্রিকার বহু দেশে ব্যবহৃত হয়। অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ফরাসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা।   উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ফরাসির গুরুত্ব রয়েছে। ফ্রান্স, কানাডা, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ আছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ফরাসি গুরুত্বপূর্ণ। দূতাবাস, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, বিমান সংস্থা, পর্যটন, অনুবাদ, গণমাধ্যম এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ফরাসি জানা প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পান।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, চামড়া ও সেবা খাতের আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। ফরাসিভাষী দেশের ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবসায়িক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে। আফ্রিকার বহু দেশে ফরাসি প্রশাসন, শিক্ষা ও ব্যবসার ভাষা। সেখানে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক সহায়তায় কাজ করতে ফরাসি দক্ষতা কার্যকর।   বিদেশি ভাষা শেখা শুধু শব্দ ও ব্যাকরণ শেখা নয়, এটি মানুষের আবেগ বোঝার ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। আবেগিক বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের এবং অন্যের আবেগ শনাক্ত করা, বোঝা, প্রকাশ করা ও নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা। এর মধ্যে আত্মসচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা ও সম্পর্ক পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত।   বাংলায় ‘অভিমান’, ‘মায়া’, ‘লজ্জা’ বা ‘সম্মান’ যেভাবে প্রকাশ করা হয়, অন্য ভাষায় তা ভিন্ন হতে পারে। একই অনুভূতি বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ভিন্ন শব্দ, ভিন্ন ভঙ্গি এবং ভিন্ন সামাজিক অর্থ বহন করে। বিদেশি ভাষা শেখার সময় শিক্ষার্থী বুঝতে পারেন যে অনুভূতি সর্বজনীন হলেও তার প্রকাশ সংস্কৃতিনির্ভর। এই উপলব্ধি আবেগ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সূক্ষ্ম করে।   বিদেশি ভাষায় কথা বলার সময় একজন মানুষ শব্দ নির্বাচন, কণ্ঠস্বর ও শ্রোতার প্রতিক্রিয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দেন। এই অনুশীলন আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সহমর্মিতা বাড়াতে পারে। প্রকৃত আবেগিক বুদ্ধিমত্তা আবেগকে দমন করা নয়, বরং আবেগকে বুঝে যথাযথভাবে পরিচালনা করা এবং সাংস্কৃতিক বুদ্ধিমত্তা হলো ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা। ভাষা ও সংস্কৃতিকে আলাদা করা যায় না। একটি ভাষার সম্ভাষণ, সম্বোধন, রসিকতা, নীরবতা, ভদ্রতা ও মতবিরোধ প্রকাশের ধরন সেই সমাজের মূল্যবোধ বহন করে।   কোনো সংস্কৃতিতে সরাসরি কথা বলা স্বাভাবিক। অন্য সংস্কৃতিতে পরোক্ষ ভাষা বেশি গ্রহণযোগ্য। কোথাও প্রথম নাম ধরে ডাকা স্বাভাবিক। কোথাও পদবি ও সম্মানসূচক শব্দ জরুরি। বিদেশি ভাষা শেখার সময় শিক্ষার্থী এসব পার্থক্য দেখতে পান। তিনি বুঝতে শেখেন যে নিজের সংস্কৃতির আচরণই একমাত্র স্বাভাবিক আচরণ নয়। এটি সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতার ধারণা তৈরি করে। এর অর্থ সব আচরণকে অন্ধভাবে গ্রহণ করা নয়। বরং কোনো আচরণ বিচার করার আগে তার সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝা। এই দক্ষতা আন্তর্জাতিক শিক্ষা, কূটনীতি, ব্যবসা, উন্নয়নকর্ম, পর্যটন ও বহুজাতিক কর্মক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   সামাজিক বুদ্ধিমত্তা হলো সামাজিক সংকেত বোঝা, সম্পর্ক তৈরি করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ করা এবং বিরোধ সামলানোর সক্ষমতা। বিদেশি ভাষায় কথা বলার সময় সঠিক শব্দ সব সময় মনে পড়ে না। তখন শিক্ষার্থীকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হয়। অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করতে হয়। শ্রোতার মুখভঙ্গি লক্ষ করতে হয়। প্রয়োজনে নিজের বক্তব্য নতুনভাবে সাজাতে হয়। এই প্রক্রিয়া যোগাযোগের নমনীয়তা বাড়ায়। এটি ধৈর্য শেখায়। মনোযোগ দিয়ে শুনতে শেখায়। ভুল স্বীকার করতে শেখায়।   ফরাসিভাষী অঞ্চলে শুধু ইংরেজির ওপর নির্ভর করলে সামাজিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। স্থানীয় ভাষা জানলে বন্ধুত্ব গড়া সহজ হয়। প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত হয়। কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়। তাই ফরাসি শেখা শুধু পেশাগত দক্ষতা নয়, এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তিরও একটি কার্যকর মাধ্যম।   বিদেশি ভাষা শেখার সময় মস্তিষ্ককে একসঙ্গে অনেক কাজ করতে হয়। নতুন শব্দ মনে রাখতে হয়। ব্যাকরণ প্রয়োগ করতে হয়। উচ্চারণ শনাক্ত করতে হয়। মাতৃভাষার প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আবার প্রয়োজনের সময় সঠিক ভাষাটি দ্রুত নির্বাচন করতে হয়। এই অনুশীলন মনোযোগ, কার্যকর স্মৃতি, ভাষাগত সচেতনতা ও মানসিক নমনীয়তার সঙ্গে যুক্ত। দুটি ভাষার গঠন তুলনা করতে করতে একজন শিক্ষার্থী ভাষা কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে শেখেন। একে ভাষা-সম্পর্কিত উচ্চতর সচেতনতা বলা হয়।   মানুষের মস্তিষ্ক স্থির নয়। অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকর সংযোগ বদলাতে পারে। এই সক্ষমতাকে Neuroplasticity বলা হয়। বিদেশি ভাষা শেখা শ্রবণ, স্মৃতি, মনোযোগ, উচ্চারণ ও অর্থ প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়বিক ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। Neuro-Linguistic Programming বা NLP ভাষা, চিন্তার ধরন ও আচরণগত অভ্যাসের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এর প্রবক্তারা মনে করেন, ভাষা ও মানসিক কাঠামো পরিবর্তন করে যোগাযোগ ও আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভাষা শিক্ষায় এর কিছু ধারণার ব্যবহার দেখা যায়। যেমন ইতিবাচক আত্মকথন। ভুলের ভয়কে নতুনভাবে দেখা।   ফরাসি শেখার পথে বাংলা ভাষাভাষীদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় বাধা হলো ভুল করার ভয়। এই ভয় আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ভাষা শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ছোট কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। বিচ্ছিন্ন শব্দ মুখস্থ না করে পুরো বাক্য শিখতে হবে। শুনতে হবে। বলতে হবে। পড়তে হবে। লিখতে হবে। উচ্চারণ উন্নত করতে অডিও শুনে বক্তার সঙ্গে সঙ্গে বলতে হবে। এই পদ্ধতিকে Shadowing বলা হয়। নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করতে হবে। পুরোনো ও নতুন রেকর্ড তুলনা করতে হবে। এতে অগ্রগতি বোঝা যায়। মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ভিডিও, পডকাস্ট, ডিজিটাল অভিধান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যায়। AI-এর সঙ্গে কথোপকথন করা যায়। ভুল বাক্য সংশোধন করা যায়। অনুশীলন করা যায়।   তবে প্রযুক্তি বাস্তব মানুষের বিকল্প নয়। শিক্ষক, বন্ধু বা ভাষাসঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা জরুরি। কারণ আবেগ, নীরবতা, কণ্ঠস্বর ও সামাজিক আচরণ শুধু অ্যাপ দিয়ে পুরোপুরি শেখা যায় না। ভুলকে ব্যর্থতা নয়, শেখার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। যত বেশি কথা বলা হবে, তত বেশি ভুল হবে। আবার তত দ্রুত উন্নতি হবে।   বিদেশি ভাষাশিক্ষা একটি মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যাত্রা। এটি নতুনভাবে কথা বলতে শেখায়। একই সঙ্গে নতুনভাবে শুনতে, ভাবতে, অনুভব করতে ও মানুষকে বুঝতে শেখায়। ফরাসি ভাষা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য উচ্চশিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, গবেষণা, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দরজা খুলতে পারে। এটি আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সাংস্কৃতিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানীয় বুদ্ধিমত্তার বিকাশেও সহায়ক হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন। বাস্তব যোগাযোগ। সাংস্কৃতিক কৌতূহল ও ভুল করার সাহস।   পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের যুগে শুধু প্রযুক্তি জানাই যথেষ্ট নয়। মানুষের প্রয়োজন যোগাযোগ ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া। এ কারণে ফরাসি শেখা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি একটি বাস্তব বিনিয়োগ। এটি নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি এবং নতুন সম্ভাবনার সঙ্গে সংযোগ তৈরির শক্তিশালী সেতু।  

জুলাই ১৯, ২০২৬ 0
শিক্ষার মানোন্নয়নের রূপরেখা : অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন
শিক্ষার মানোন্নয়নের রূপরেখা : অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন

  শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে—বিশেষত প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি প্রায় সর্বজনীন হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়লেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা—বিশেষত পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা—উদ্বেগজনকভাবে দুর্বল। এই বাস্তবতায় শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয় বরং একটি সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিতকরণে দিতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, শিক্ষার মান নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো শিক্ষক। একজন যোগ্য, দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষক একটি দুর্বল অবকাঠামোর স্কুলেও ভালো শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। বাংলাদেশে শিক্ষকসংখ্যা অনেক হলেও শিক্ষকের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ,শিক্ষক পেশার সামাজিক মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি, ধারাবাহিক in-service training, শিক্ষক মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।  ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে শিক্ষকতা একটি উচ্চ মর্যাদার পেশা—যেখানে সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসে। বাংলাদেশের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শক্তিশালী প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে  শিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক স্তরে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ২৫% শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে প্রত্যাশিত পাঠ ও গণিত দক্ষতা অর্জন করতে পারে। প্রাথমিক স্তরে ভাষা ও গণিত দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমানো, শিশু-কেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকারযোগ্য। পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাকেন্দ্রিক। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার পরিবর্তে মুখস্থবিদ্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।  মুখস্থনির্ভর পরীক্ষা থেকে বের হয়ে  দক্ষতা-ভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। সমালোচনামূলক চিন্তা ও সমস্যা সমাধান দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। পাঠ্যক্রমকে শ্রমবাজার ও বাস্তব জীবনের সাথে সংযুক্ত করা সময়ের দাবী। এক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা মডেল একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যেখানে পরীক্ষার চেয়ে শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার,  ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু বাংলাদেশে প্রযুক্তি ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় বৈষম্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৭% নিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যার মুখোমুখি হয়, যা ডিজিটাল শিক্ষাকে সীমিত করে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ল্যাব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, অনলাইন ও হাইব্রিড শিক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়  জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।  শিক্ষা উন্নয়নের অনেক প্রকল্প থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। গত এক দশকে প্রাথমিক শিক্ষায় বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,বিদ্যালয় পর্যায়ে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জরুরি। শিক্ষায় সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশে দরিদ্র, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ এখনো সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্য, শিশুশ্রম ও অল্প বয়সে বিয়ে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত করে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যালয় ও শিক্ষক প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।  এছাড়া শিক্ষার সাথে কর্মসংস্থানের সংযোগ থাকা প্রয়োজন। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন অনেক তরুণও কর্মসংস্থানের সংকটে পড়ে। STEM শিক্ষা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণে শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের সাফল্য নয়, এখন প্রয়োজন শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক উন্নয়ন, শক্তিশালী প্রাথমিক শিক্ষা, আধুনিক পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষায় সমতা—এই ছয়টি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে যদি এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যায়, তবে শিক্ষাই হবে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।  

জুলাই ১৯, ২০২৬ 0
Popular post
শেষের অনুশোচনা

মোবারক হোসেন ছিলেন শহরের প্রান্তে ছোট একটি ব্যবসার মালিক। সারা জীবন হিসাবি, কিপ্টে ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে তাঁর সুনাম কখনো গড়ে ওঠেনি। ছেলেবেলায় তাঁর পরিবার অভাবী ছিল, কিন্তু মা-বাবা সব সময় চেষ্টা করতেন সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করতে। অথচ সেই মোবারক সামান্য টাকা জমাতে গিয়ে মা-বাবার ওষুধ কেনা থেকেও পিছপা হয়েছেন। আত্মীয়স্বজনের বিপদে কখনো একটি পয়সা দেননি, এমনকি বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে থেকেছেন কেউ ধার চেয়ে বসে এই ভয়ে। সময়ের সাথে সাথে মোবারকের ব্যবসা জমে উঠল। দোকান থেকে উপার্জিত টাকা তিনি ব্যাংকে জমাতেন, ফিক্সড ডিপোজিট করতেন, আর স্বর্ণ কিনে লুকিয়ে রাখতেন পুরোনো ট্রাংকে। কেউ জানত না তাঁর আসল সম্পদের পরিমাণ। অথচ নিজের বাড়িটাও পুরোনো, ফাটল ধরা দেয়ালে ভরা। সেখানেই থাকতেন একাকী, রান্নার কাজ করতেন নিজেই, যেন একটা ডিমও অপচয় না হয়। বয়স যখন ষাট পেরিয়েছে, তখন হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি বাগানবাড়ি বানাবেন শহরের বাইরে। শেষ বয়সে একটু খোলামেলা পরিবেশে থাকা যাবে, এই যুক্তি দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ করলেন। বাড়িটি বানাতে গিয়ে বহু শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিলেন। মোবারক বাড়ির সব খরচ নিজ হাতে হিসাব রাখতেন। ঘরগুলো আধুনিক, দেয়ালে কাঠের কারুকাজ, বারান্দায় দোলনা — সবই পরিপাটি, নিখুঁত। কিন্তু তবুও কেউ ছিল না পাশে। তিন বছর পর ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করলেন মোবারক। বড় গেট, ফুলে ভরা বাগান, হাঁটার পথ, বিশ্রামের ছায়া — সবই ছিল, কিন্তু সঙ্গী বলতে কেউ ছিল না। একদিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলেন। গা কাঁপুনি, জ্বর, দুর্বলতা। স্থানীয় ডাক্তার প্রথমে পাত্তা দিলেন না। কিন্তু দিন পেরোতে না পেরোতেই বোঝা গেল সমস্যাটা গুরুতর। শহরে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করালেন। ধরা পড়ল প্যানক্রিয়াস ক্যান্সার, তৃতীয় স্টেজ। হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে মোবারক প্রথমবারের মতো ভাবলেন, এই বিশাল বাড়ি, জমানো টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স — সবই কেমন অর্থহীন লাগছে! জীবন এতটাই ক্ষণস্থায়ী, অথচ তিনি সারা জীবন কাটালেন হিসেব কষে। বাবার জীবনের শেষ সময়ে একটা ইনহেলার কেনেননি, মায়ের চোখে ছানি অপারেশনের খরচ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ভাতিজার পড়াশোনার খরচ না দেয়ায় কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ছেলেটি। আজ সেই মোবারকের পাশে কেউ নেই। এক সন্ধ্যায় হাসপাতালের জানালায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে উঠল তাঁর। ছোট একটি মেয়ে পাশের রোগীকে তার বাবাকে ফল খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি তাঁকে মনে করিয়ে দিল, তাঁর একটাই দোষ, ‘ভয় আর অবিশ্বাসে ভরা এক হৃদয়’। তিনি ভালোবাসতে পারেননি, কাউকে বিশ্বাস করতে পারেননি, এমনকি কাছের লোকজনকেও সাহায্য করতে পারেননি। টাকা ছিল, হৃদয় ছিল না। মোবারক সেই রাতে একজন নার্সকে ডেকে বললেন, “একটা কাজ করে দেবে মা?” নার্স বলল, “বলুন কাকা।” তিনি বললেন, “এই চিঠিটা আমার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকে পৌঁছে দেবে। আর যদি আমি বেঁচে না থাকি, আমার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে সব কাগজ ও টাকা আমার গ্রামের দরিদ্র লোকজনের জন্য ওয়াকফ করে দিয়ো।” চিঠিতে তিনি তাঁর কিপ্টামির স্বীকারোক্তি লিখেছিলেন। ক্ষমা চেয়েছিলেন মা-বাবার কাছেও। আর সব সম্পত্তি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এতিমখানা, হাসপাতাল এবং গ্রামের দরিদ্রদের জন্য। দুদিন পর মোবারক হোসেন মারা গেলেন। কেউ খুব একটা কাঁদেনি, কিন্তু তাঁর চিঠি যখন প্রকাশিত হলো, তখন অনেকের চোখে পানি এসেছিল। এক কাপুরুষ, কিপ্টে মানুষ শেষ জীবনে বুঝেছিলেন, মানুষের জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়, বরং সম্পর্ক, সহানুভূতি আর উদারতা। তাঁর তৈরি বাগানবাড়িটি এখন এক বৃদ্ধাশ্রম, যেখানে অনাথ ও অসহায় বৃদ্ধরা বসবাস করেন। তাঁর কিপ্টে জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাওয়া অনুশোচনাই হয়তো মানুষের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি হয়ে রয়ে গেল — একটা নিঃশব্দ শিক্ষা।

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

  চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, কমিশনিং, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিচালনা, আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।  ড. জাহেদুল হাসান বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বাধীন কারিগরি, নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে এর প্রতিটি ধাপ পরিচালিত হয়।  তিনি জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রকল্পের মালিক হিসেবে নির্মাণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং স্থাপনা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড আইন অনুযায়ী কেন্দ্রটির অপারেটিং অর্গানাইজেশন। কমিশনিং, নিরাপদ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে ডিকমিশনিং পর্যন্ত সব অপারেশনাল দায়িত্ব এনপিসিবিএলের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করছে। কমিশনিং কার্যক্রমের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বিএইবিএ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিও সেফটিকে এক্সপার্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সিআরইএ কমিশনিং, অপারেশনাল প্রস্তুতি, অপারেটর প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান স্থানান্তরে এনপিসিবিএলকে সহায়তা করছে। রাশিয়ার স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Rostechnadzor গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিং পর্যায়ে বিএইআরএর সঙ্গে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন Peer Review Mission ও Technical Review পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। ড. জাহেদুল বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হয়। এনপিসিবিএল এখনো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি—এমন সমালোচনার বিষয়ে ড. জাহেদুল বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকার এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। শত শত প্রকৌশলী, অপারেটর, রিঅ্যাক্টর বিশেষজ্ঞ, রসায়নবিদ, বিকিরণ সুরক্ষা কর্মকর্তা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী রাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা Full Scope Simulator, On-the-Job Training এবং Classroom Training-সহ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অপারেটরকে বিএইআরএর কঠোর লাইসেন্সিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। একই সময়ে সিআরইএর বিশেষজ্ঞরা কমিশনিং পর্যায়ে এনপিসিবিএলের কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্থানান্তর নিশ্চিত করছেন। ফলেএনপিসিবিএল বর্তমানে প্রযুক্তিগত, অপারেশনাল ও প্রাতিষ্ঠানিক—সব দিক থেকেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি সক্ষম Operating Organization হিসেবে গড়ে উঠেছে।  স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি—এমন আলোচনার প্রসঙ্গে ড. জাহেদুল বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শিল্পের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মধ্যে চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও টিভিইলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএইএর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রিঅ্যাক্টর থেকে অপসারণের পর তাৎক্ষণিকভাবে অন্য দেশে পাঠানো হয় না। প্রথমে কেন্দ্রের নকশার অংশ হিসেবে নির্মিত স্পেন্ট ফুয়েল পোলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও শীতলীকরণ করা হয়, যা বিশ্বের সব আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অনুসরণ করা হয়।   পরবর্তীতে বিদ্যমান আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ভিবিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।  

কামিনীর গন্ধে তুমি

আকাশের নীলে কীবা কবিতার মিলে না গোলাপের সুরভিতে ডানা মেলা চিলে না। গোধূলির রং এসে সন্ধ্যায় যায় মেশে কোথাও তো নেই তুমি গল্পের শুরু-শেষে।   চাদরের আদরে না না ভোরের রবিতে না শিমুল কোলে থাকা কোকিলের ছবিতে। রিমঝিম টুপটাপ বরষার ছন্দে তোমাকেই খুঁজে পাই কামিনীর গন্ধে।  

তোমাকেই প্রয়োজন

অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যাকাশ শুরু হয়েছে একের পর এক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ; মহামারি চলছে পাল্লা দিয়ে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পশুত্ব গিলছে মনুষ্যত্ব অ-অনুমেয়— কতটা লম্বা মৃত্যুর মিছিল?   অশান্ত, ভীষণ প্রকৃতি এখন। ধৈর্য, সহনশীলতার হয়েছে অকালমৃত্যু দানবীয় শক্তিতে জ্বলে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। বিষাক্ত বিষ উদগিরিত হচ্ছে গলগলিয়ে লাভার তাপে অঙ্গার হলো পাখির নীড়।   এমন দুর্যোগকালীন সময়ে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। কেবল তুমিই জানো স্বার্থের বেড়া ভেঙে প্রেমের কুটির রচনার মন্ত্র। তুমিই পারো ধ্বংসস্তূপকে রূপ দিতে শৈল্পিক।   এমন ধবধবে ভূতুড়ে দিনে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। তোমার জাদুকরি শব্দরাই পারবে মোহের ঝকমকি সরিয়ে জাগ্রত পতাকা ওড়াতে। তোমার আগুনঝরা কথা স্ফুলিঙ্গের মতো ঘুরবে কালের আকাশে।  

বাবারা এমনই

পিঠে পেট ঠেকেছে, তবু আনন্দ-বেসাতির কমতি নেই রোদে পুড়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে  একটা মানুষ জীবন-যুদ্ধে লড়ে যায় অহর্নিশি প্রসন্নতার আলপথে খোঁজে কষ্টের সুখ চোখের দীপ্র জ্যোতিতে প্রিয় সন্তানের মুখ কষ্টের টানাপোড়েনেও বাবা যেন সাঁকো বাঁধা সেতু- জীবন-নদীর দুই তীর অপত্য স্নেহে আগলে বেঁধে রাখে। নদীর স্রোত কোথাও খরস্রোতা, কোথাও ধীর লয় রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পরিশ্রমী বাবারা এমনই বহমান নদী।

Top week

শেষের অনুশোচনা
সাহিত্য

শেষের অনুশোচনা

জুলাই ২০, ২০২৬ 0