চীনে নিজস্ব এআই সেবা চালুর লক্ষ্যে আলিবাবা ও বাইদুর প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এই ঘোষণার পরপরই হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ডিভাইসে এখন থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সসহ সাতটি এআই সেবা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আলিবাবার ‘কিউয়েন এআই’ মডেল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা ছবি ও টেক্সট প্রক্রিয়াজাত করার উন্নত সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, বাইদু আইফোন ডিভাইসের জন্য অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ফিচার তৈরিতে কাজ করবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এই অংশীদারিত্ব অ্যাপলের জন্য চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর আইনি লড়াইয়ের উত্তাপের মধ্যেই বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিল চীন। সোমবার সাংহাইতে আয়োজিত এক ইভেন্টে 'স্টেপফান' নামের একটি স্টার্টআপ তাদের নতুন ‘স্টেপএক্স নিও’ ফোনটি সবার সামনে নিয়ে এসেছে। নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘স্টেপ এওএস’ এবং ‘স্টেপ আমু’ এআই এজেন্টের সমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। মাইক্রোসফটের প্রাক্তন কর্মীদের তৈরি এই এআই স্টার্টআপের দাবি, সাধারণ স্মার্টফোনের মতো এই ফোনে আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন নেই। ‘স্টেপ আমু’ নামের এআই এজেন্টটি ভয়েস বা সাধারণ টেক্সট কমান্ডের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেন, ভ্রমণ ও অন্যান্য জটিল কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও কাজ করতে সক্ষম এই এআই মডেলটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ভিত্তিতে তৈরি। বর্তমানে মার্কিন প্রযুক্তি বাজারে যখন অ্যাপল ও ওপেনএআই-এর মতো কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক গোপনীয়তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন চীনের এই সাফল্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই স্মার্টফোনের দাম বা বাজারে আসার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেপফান।
অপরাধ দমনে পুলিশ কর্মকর্তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে তিনি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। সাইবার অপরাধসহ আধুনিক ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিয়ত নিজেদের আপডেট থাকারও কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। এবারের সমাপনী কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারীসহ মোট ৫০০ জন শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইজিপি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পাঁচ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবায় কাজ করার আহ্বান জানান। আইজিপি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবেলায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে এসব ক্যাডেটরা দুই বছরের মাঠ পর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুরে ব্যবহৃত থার্ড-জেনারেশন প্রযুক্তির কারণে চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমেই এর নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান জানান, রূপপুরে অত্যাধুনিক Generation-III+ VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতীতের সব পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিক্ষা থেকে তৈরি। কেন্দ্রটিতে কোর ক্যাচার, প্যাসিভ হিট রিমুভাল সিস্টেম এবং ডাবল কন্টেইনমেন্টের মতো শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম। কমিশনিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত কঠোর একটি শিল্পপ্রক্রিয়া, যা তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আইএইএ (IAEA) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো ধরনের কারিগরি দুর্বলতা নয়, বরং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রতিটি পরীক্ষা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাই প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের রেকর্ড পরিমাণ সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পুঁজিবাদ ও ডিজিটাল অর্থনীতির চরিত্র বদলে যাওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রথাগত পণ্য উৎপাদন বা সম্পদের চেয়ে এখন ডেটা, অ্যালগরিদম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই অর্থনৈতিক ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানের এই নতুন ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণকে অনেক অর্থনীতিবিদ ‘টেকনো-ফিউডালিজম’ বা প্রযুক্তিগত সামন্তবাদ হিসেবে অভিহিত করছেন। অতীতে সম্পদের উৎস ছিল তেল, ইস্পাত বা ব্যাংক, কিন্তু বর্তমানের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন এক অবকাঠামো গড়ে তুলছে যা জনমত থেকে শুরু করে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। জেফ বেজোস বা মার্ক জাকারবার্গের মতো ‘ক্লাউডালিস্ট’রা এখন প্রথাগত পুঁজিবাদের সীমানা ছাড়িয়ে এমন এক ডিজিটাল পরিসর তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যই মুনাফার মূল কাঁচামাল। ব্যবহারকারীরা যখন এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন, তখন তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিবর্তে অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এক ডিজিটাল বাস্তুসংস্থানে প্রবেশ করেন, যা মালিকপক্ষের মুনাফা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলন মাস্কের মতো ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির রহস্য লুকানো রয়েছে তাদের সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে, যেখানে স্টারলিঙ্ক, স্পেসএক্স, এক্স (টুইটার) ও টেসলার ডেটা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। এই মডেল কোনো একক পণ্য বিক্রির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যা বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। যদিও অনেকে একে সামন্তবাদের আক্ষরিক পুনরাবৃত্তি না বলে পুঁজিবাদেরই আরও আগ্রাসী ও কেন্দ্রীভূত রূপ মনে করেন, তবুও এই ধারায় ধনকুবেরদের সম্পদের পাহাড় গড়া এবং বৈশ্বিক সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, উদীয়মান প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিবিদেরা আলোচনা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ জাতিসংঘের মহাসচিব বক্তব্য রাখেন। তারা এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। এই আয়োজনে ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট সুশাসন নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের সদিচ্ছা বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।
মোবারক হোসেন ছিলেন শহরের প্রান্তে ছোট একটি ব্যবসার মালিক। সারা জীবন হিসাবি, কিপ্টে ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে তাঁর সুনাম কখনো গড়ে ওঠেনি। ছেলেবেলায় তাঁর পরিবার অভাবী ছিল, কিন্তু মা-বাবা সব সময় চেষ্টা করতেন সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করতে। অথচ সেই মোবারক সামান্য টাকা জমাতে গিয়ে মা-বাবার ওষুধ কেনা থেকেও পিছপা হয়েছেন। আত্মীয়স্বজনের বিপদে কখনো একটি পয়সা দেননি, এমনকি বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে থেকেছেন কেউ ধার চেয়ে বসে এই ভয়ে। সময়ের সাথে সাথে মোবারকের ব্যবসা জমে উঠল। দোকান থেকে উপার্জিত টাকা তিনি ব্যাংকে জমাতেন, ফিক্সড ডিপোজিট করতেন, আর স্বর্ণ কিনে লুকিয়ে রাখতেন পুরোনো ট্রাংকে। কেউ জানত না তাঁর আসল সম্পদের পরিমাণ। অথচ নিজের বাড়িটাও পুরোনো, ফাটল ধরা দেয়ালে ভরা। সেখানেই থাকতেন একাকী, রান্নার কাজ করতেন নিজেই, যেন একটা ডিমও অপচয় না হয়। বয়স যখন ষাট পেরিয়েছে, তখন হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি বাগানবাড়ি বানাবেন শহরের বাইরে। শেষ বয়সে একটু খোলামেলা পরিবেশে থাকা যাবে, এই যুক্তি দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ করলেন। বাড়িটি বানাতে গিয়ে বহু শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিলেন। মোবারক বাড়ির সব খরচ নিজ হাতে হিসাব রাখতেন। ঘরগুলো আধুনিক, দেয়ালে কাঠের কারুকাজ, বারান্দায় দোলনা — সবই পরিপাটি, নিখুঁত। কিন্তু তবুও কেউ ছিল না পাশে। তিন বছর পর ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করলেন মোবারক। বড় গেট, ফুলে ভরা বাগান, হাঁটার পথ, বিশ্রামের ছায়া — সবই ছিল, কিন্তু সঙ্গী বলতে কেউ ছিল না। একদিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলেন। গা কাঁপুনি, জ্বর, দুর্বলতা। স্থানীয় ডাক্তার প্রথমে পাত্তা দিলেন না। কিন্তু দিন পেরোতে না পেরোতেই বোঝা গেল সমস্যাটা গুরুতর। শহরে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করালেন। ধরা পড়ল প্যানক্রিয়াস ক্যান্সার, তৃতীয় স্টেজ। হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে মোবারক প্রথমবারের মতো ভাবলেন, এই বিশাল বাড়ি, জমানো টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স — সবই কেমন অর্থহীন লাগছে! জীবন এতটাই ক্ষণস্থায়ী, অথচ তিনি সারা জীবন কাটালেন হিসেব কষে। বাবার জীবনের শেষ সময়ে একটা ইনহেলার কেনেননি, মায়ের চোখে ছানি অপারেশনের খরচ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ভাতিজার পড়াশোনার খরচ না দেয়ায় কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ছেলেটি। আজ সেই মোবারকের পাশে কেউ নেই। এক সন্ধ্যায় হাসপাতালের জানালায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে উঠল তাঁর। ছোট একটি মেয়ে পাশের রোগীকে তার বাবাকে ফল খাওয়াচ্ছে। দৃশ্যটি তাঁকে মনে করিয়ে দিল, তাঁর একটাই দোষ, ‘ভয় আর অবিশ্বাসে ভরা এক হৃদয়’। তিনি ভালোবাসতে পারেননি, কাউকে বিশ্বাস করতে পারেননি, এমনকি কাছের লোকজনকেও সাহায্য করতে পারেননি। টাকা ছিল, হৃদয় ছিল না। মোবারক সেই রাতে একজন নার্সকে ডেকে বললেন, “একটা কাজ করে দেবে মা?” নার্স বলল, “বলুন কাকা।” তিনি বললেন, “এই চিঠিটা আমার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকে পৌঁছে দেবে। আর যদি আমি বেঁচে না থাকি, আমার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে সব কাগজ ও টাকা আমার গ্রামের দরিদ্র লোকজনের জন্য ওয়াকফ করে দিয়ো।” চিঠিতে তিনি তাঁর কিপ্টামির স্বীকারোক্তি লিখেছিলেন। ক্ষমা চেয়েছিলেন মা-বাবার কাছেও। আর সব সম্পত্তি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এতিমখানা, হাসপাতাল এবং গ্রামের দরিদ্রদের জন্য। দুদিন পর মোবারক হোসেন মারা গেলেন। কেউ খুব একটা কাঁদেনি, কিন্তু তাঁর চিঠি যখন প্রকাশিত হলো, তখন অনেকের চোখে পানি এসেছিল। এক কাপুরুষ, কিপ্টে মানুষ শেষ জীবনে বুঝেছিলেন, মানুষের জীবনের আসল সম্পদ টাকা নয়, বরং সম্পর্ক, সহানুভূতি আর উদারতা। তাঁর তৈরি বাগানবাড়িটি এখন এক বৃদ্ধাশ্রম, যেখানে অনাথ ও অসহায় বৃদ্ধরা বসবাস করেন। তাঁর কিপ্টে জীবনের শেষ অধ্যায়ে পাওয়া অনুশোচনাই হয়তো মানুষের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি হয়ে রয়ে গেল — একটা নিঃশব্দ শিক্ষা।
চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, কমিশনিং, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, পরিচালনা, আন্তর্জাতিক তদারকি কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন। ড. জাহেদুল হাসান বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বাধীন কারিগরি, নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে এর প্রতিটি ধাপ পরিচালিত হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রকল্পের মালিক হিসেবে নির্মাণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং স্থাপনা গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড আইন অনুযায়ী কেন্দ্রটির অপারেটিং অর্গানাইজেশন। কমিশনিং, নিরাপদ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে ডিকমিশনিং পর্যন্ত সব অপারেশনাল দায়িত্ব এনপিসিবিএলের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করছে। কমিশনিং কার্যক্রমের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বিএইবিএ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিও সেফটিকে এক্সপার্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সিআরইএ কমিশনিং, অপারেশনাল প্রস্তুতি, অপারেটর প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান স্থানান্তরে এনপিসিবিএলকে সহায়তা করছে। রাশিয়ার স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Rostechnadzor গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিং পর্যায়ে বিএইআরএর সঙ্গে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বিভিন্ন Peer Review Mission ও Technical Review পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। ড. জাহেদুল বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হয়। এনপিসিবিএল এখনো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি—এমন সমালোচনার বিষয়ে ড. জাহেদুল বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকার এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। শত শত প্রকৌশলী, অপারেটর, রিঅ্যাক্টর বিশেষজ্ঞ, রসায়নবিদ, বিকিরণ সুরক্ষা কর্মকর্তা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী রাশিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা Full Scope Simulator, On-the-Job Training এবং Classroom Training-সহ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অপারেটরকে বিএইআরএর কঠোর লাইসেন্সিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। একই সময়ে সিআরইএর বিশেষজ্ঞরা কমিশনিং পর্যায়ে এনপিসিবিএলের কর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্থানান্তর নিশ্চিত করছেন। ফলেএনপিসিবিএল বর্তমানে প্রযুক্তিগত, অপারেশনাল ও প্রাতিষ্ঠানিক—সব দিক থেকেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি সক্ষম Operating Organization হিসেবে গড়ে উঠেছে। স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি—এমন আলোচনার প্রসঙ্গে ড. জাহেদুল বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শিল্পের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মধ্যে চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও টিভিইলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএইএর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রিঅ্যাক্টর থেকে অপসারণের পর তাৎক্ষণিকভাবে অন্য দেশে পাঠানো হয় না। প্রথমে কেন্দ্রের নকশার অংশ হিসেবে নির্মিত স্পেন্ট ফুয়েল পোলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও শীতলীকরণ করা হয়, যা বিশ্বের সব আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অনুসরণ করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যমান আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ভিবিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।
আকাশের নীলে কীবা কবিতার মিলে না গোলাপের সুরভিতে ডানা মেলা চিলে না। গোধূলির রং এসে সন্ধ্যায় যায় মেশে কোথাও তো নেই তুমি গল্পের শুরু-শেষে। চাদরের আদরে না না ভোরের রবিতে না শিমুল কোলে থাকা কোকিলের ছবিতে। রিমঝিম টুপটাপ বরষার ছন্দে তোমাকেই খুঁজে পাই কামিনীর গন্ধে।
অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে পৃথিবীর ভাগ্যাকাশ শুরু হয়েছে একের পর এক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ; মহামারি চলছে পাল্লা দিয়ে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পশুত্ব গিলছে মনুষ্যত্ব অ-অনুমেয়— কতটা লম্বা মৃত্যুর মিছিল? অশান্ত, ভীষণ প্রকৃতি এখন। ধৈর্য, সহনশীলতার হয়েছে অকালমৃত্যু দানবীয় শক্তিতে জ্বলে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। বিষাক্ত বিষ উদগিরিত হচ্ছে গলগলিয়ে লাভার তাপে অঙ্গার হলো পাখির নীড়। এমন দুর্যোগকালীন সময়ে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। কেবল তুমিই জানো স্বার্থের বেড়া ভেঙে প্রেমের কুটির রচনার মন্ত্র। তুমিই পারো ধ্বংসস্তূপকে রূপ দিতে শৈল্পিক। এমন ধবধবে ভূতুড়ে দিনে তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন, কবিতা। তোমার জাদুকরি শব্দরাই পারবে মোহের ঝকমকি সরিয়ে জাগ্রত পতাকা ওড়াতে। তোমার আগুনঝরা কথা স্ফুলিঙ্গের মতো ঘুরবে কালের আকাশে।
পিঠে পেট ঠেকেছে, তবু আনন্দ-বেসাতির কমতি নেই রোদে পুড়ে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে একটা মানুষ জীবন-যুদ্ধে লড়ে যায় অহর্নিশি প্রসন্নতার আলপথে খোঁজে কষ্টের সুখ চোখের দীপ্র জ্যোতিতে প্রিয় সন্তানের মুখ কষ্টের টানাপোড়েনেও বাবা যেন সাঁকো বাঁধা সেতু- জীবন-নদীর দুই তীর অপত্য স্নেহে আগলে বেঁধে রাখে। নদীর স্রোত কোথাও খরস্রোতা, কোথাও ধীর লয় রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পরিশ্রমী বাবারা এমনই বহমান নদী।